LFS কি এবং কেন ?

LFS বা লিনাক্স ফ্রম স্ক্র্যাচ হচ্ছে সোর্স থেকে সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করে একটি স্বনির্ধারিত লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন তৈরি করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতি সচরাচর যারা লিনাক্সের স্বনির্ধারিত ডিস্ট্রো তৈরি করতে ব্যবহার করে থাকে সেরকম নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদ্ধতি এবং সময় সাপেক্ষও বটে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে স্ক্র্যাচ কি?
স্ক্র্যাচ: একটি অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে তার একটি ডায়াগ্রাম দেখুন। এখানে সবার নিচে আমরা দেখছি সিপিউ,
মেমোরি এবং অন্যান্য ডিভাইসসমূহ। সবার উপরে দেখছি অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার কম্পিউটারে যাবতীয় কাজ করে থাকে। কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে পারে না। কোন অ্যাপ্লিকেশন কোন হার্ডওয়্যার কিভাবে ব্যবহার করবে তা মডিউল আকারে কার্নেলের মধ্যে দেয়া থাকে। অ্যাপ্লিকেশন এই কার্নেল ব্যবহার করে হার্ডওয়্যারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। সুতরাং কার্নেল কে বলা যেতে পারে একটি অপারেটিং সিস্টেমের হার্ট। অথবা বলতে পারেন আরম্ভস্থল বা কোর। LFS এ এই কার্নেল কে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কম্পাইল করা হয়। একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির প্রথম কাজই হচ্ছে কার্নেল কম্পাইলেশন। আপনি নিজে আপনার অপারেটিং সিস্টেমের কাঠামো তৈরি করবেন কার্নেল কম্পাইল করার মাধ্যমে। এই পর্যায় থেকে স্বনির্ধারিত ডিস্ট্রো তৈরির পদ্ধতিই হচ্ছে ‘স্ক্র্যাচ থেকে লিনাক্স’। এখানে স্ক্র্যাচ বলতে স্টার্টিং পয়েন্ট বোঝানো হয়েছে।
স্বাভাবিক ভাবে অনেকেই ভাবতে পারেন, যদি আমি বিদ্যমান বিভিন্ন চিত্রভিত্তিক অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে মেইন স্ট্রীম লিনাক্স ডিস্ট্রো কাস্টমাইযড্ করতে পারি তাহলে এত ঝামেলা করে এবং সময় লাগিয়ে LFS পদ্ধতি অনুসরণ করব কেন? এর উত্তর LFS এর উপকারিতা সম্পর্কে অবগত হলে অনুধাবন করতে পারবেন।
LFS এর প্রধান উপকারিতা:
আপনার লিনাক্স ডিস্ট্রোর অভ্যন্তরীন সিস্টেম সম্পর্কে যদি আপনি ভাল ধারণা পেতে চান তাহলে স্ক্র্যাচ থেকে লিনাক্স ডিস্ট্রো তৈরি করুন। এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন কিভাবে যাবতীয় সিস্টেম ফাইল একসাথে কাজ করে এবং কে কার উপর নির্ভর করে। আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট পছন্দ এবং প্রয়োজন থাকে সেটি কিভাবে স্ক্র্যাচ থেকে সিস্টেমের মধ্যে জুড়ে দিতে হয় তা জানতে পারবেন।
ধরুন আপনি অন্যান্য চিত্রভিত্তিক টুল ব্যবহার করে কাস্টম ডিস্ট্রো তৈরি করলেন অথবা আপনি একটি রেগুলার ডিস্ট্রিবিউশন ইনস্টল করলেন। সেখানে আপনি না চাইতেও অনেক অ্যাপ্লিকেশন এবং প্রোগ্রাম ইনস্টল হয়ে যায়, যা আপনি হয়ত কখনই ব্যবহার করবেন না। সেই সমস্ত অ্যাপস গুলো আপনার ডিস্কের জায়গা ব্যবহার করছে শুধু শুধুই। কিন্তু আপনি চাইলে LFS সিস্টেম ১০০ মেগাবাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ইনস্টল করতে পারবেন যেখানে শুধুই আপনার প্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইল এবং অ্যাপস থাকবে। কিছু সংখ্যক ডেভেলপার আজকাল খুবই ছোট এমবেডেড LFS সিস্টেম তৈরির কাজ করছে। অনেকে শুধুমাত্র অ্যাপাচি ওয়েব সার্ভার চালানোর জন্য LFS সিস্টেম তৈরি করেছে। এটি মাত্র ৮ মেগাবাইট জায়গা নিয়ে চলবে এবং কিছু অতিরিক্ত টুইকিং এর মাধ্যমে এটিকে ৫ মেগাবাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব। আপনি চেষ্টা করেই দেখুন না, রেগুলার সিস্টেমের সাহায্যে এই কাজ করতে পারেন কিনা।
LFS সিস্টেম কে ধরা যেতে পারে একটি সদ্য কাজ সমাপ্ত বিল্ডিং এর সাথে। যেখানে শুধু বিল্ডিং এর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং এখন আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী ইলেকট্রিক লাইন, পানির লাইন, দেয়ালের রঙ, কিচেনের ডিজাই ইত্যাদি ঠিক করে নিবেন। একারনে LFS সিস্টেমের ফ্লেক্সিবিলিটি এত বেশী।
যেহেতু আপনিই স্ক্র্যাচ থেকে একটি পুরো সিস্টেম তৈরি করছেন তাই সিস্টেমের যাবতীয় নিরাপত্তা জনিত ব্যাপার আপনিই ঠিক করে নিতে পারবেন। রেগুলার সিস্টেমে যেমন বিভিন্ন সিকিউরিটি হোল থাকে যা আপনি LFS সিস্টেমে খুঁজে বের করে প্যাচিং করে ঠিক করে নিতে পারবেন। আপনাকে সিকিউরিটি হোল ফিক্সের জন্য বাইনারী প্যাকেজ রিলিজের অপেক্ষা করতে হবে না। অন্যদের করা ফিক্সিংএ আপনি বিশ্বাস নাও করতে চাইতে পারেন। LFS সিস্টেমে এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন।
আপনি যদি অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে এবং কার্নেলে আসলে কি থাকে এবং তা কিসের উপরে নির্ভর করে তা জানতে চান তাহলে LFS নিয়ে স্টাডি করা আপনার জন্য সর্বোত্তম উপায়। এর জন্য Gerard Beekmans এর রচিত একটি বিখ্যাত এবং কার্যকর ই-বুক রয়েছে। আপনি LFS সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে পরবর্তিতে BLFS, ALFS, CLFS, HLFS নিয়ে জানতে সক্ষম হবেন।
মন্তব্যের মাধ্যমে লিখাটির সাথে কোন কিছু সংযোজন করার সুপারিশ করতে পারেন। আপনার ব্লগে এই লেখার অনুলিপি এবং সংযোজন করে পাবলিশ করতে পারবেন।
Total Hits: 396
মেমোরি এবং অন্যান্য ডিভাইসসমূহ। সবার উপরে দেখছি অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার কম্পিউটারে যাবতীয় কাজ করে থাকে। কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে পারে না। কোন অ্যাপ্লিকেশন কোন হার্ডওয়্যার কিভাবে ব্যবহার করবে তা মডিউল আকারে কার্নেলের মধ্যে দেয়া থাকে। অ্যাপ্লিকেশন এই কার্নেল ব্যবহার করে হার্ডওয়্যারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। সুতরাং কার্নেল কে বলা যেতে পারে একটি অপারেটিং সিস্টেমের হার্ট। অথবা বলতে পারেন আরম্ভস্থল বা কোর। LFS এ এই কার্নেল কে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কম্পাইল করা হয়। একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির প্রথম কাজই হচ্ছে কার্নেল কম্পাইলেশন। আপনি নিজে আপনার অপারেটিং সিস্টেমের কাঠামো তৈরি করবেন কার্নেল কম্পাইল করার মাধ্যমে। এই পর্যায় থেকে স্বনির্ধারিত ডিস্ট্রো তৈরির পদ্ধতিই হচ্ছে ‘স্ক্র্যাচ থেকে লিনাক্স’। এখানে স্ক্র্যাচ বলতে স্টার্টিং পয়েন্ট বোঝানো হয়েছে।